অটোগ্রাফ... রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

খুলে আজ বলি, ওগো নব্য,  
 নও তুমি পুরোপুরি সভ্য।  
 জগৎটা যত লও চিনে  
 ভদ্র হতেছ দিনে দিনে।  
 বলি তবু সত্য এ কথা—  
 বারো-আনা অভদ্রতা  
 কাপড়ে-চোপড়ে ঢাক ‘তারে,  
 ধরা তবু পড়ে বারে বারে,  
 কথা যেই বার হয় মুখে  
 সন্দেহ যায় সেই চুকে।  
  
  ডেস্কেতে দেখিলাম, মাতা  
 রেখেছেন অটোগ্রাফ-খাতা।  
 আধুনিক রীতিটার ভানে  
 যেন সে তোমারই দাবি আনে।  
 এ ঠকানো তোমার যে নয়  
 মনে মোর নাই সংশয়।  
 সংসারে যারে বলে নাম  
 তার যে একটু নেই দাম  
 সে কথা কি কিছু ঢাকা আছে  
 শিশু ফিলজফারের কাছে।  
 খোকা বলে , বোকা বলে কেউ—  
 তা নিয়ে কাঁদ না ভেউ-ভেউ।  
 নাম-ভোলা খুশি নিয়ে আছ,  
 নামের আদর নাহি যাচ।  
 খাতাখানা মন্দ এ না গো  
 পাতা-ছেঁড়া কাজে যদি লাগ।  
 আমার নামের অক্ষর  
 চোখে তব দেবে ঠোক্কর।  
 ভাববে, এ বুড়োটার খেলা,  
 আঁচড়-পাঁচড় কাটে মেলা।  
 লজঞ্জুসের যত মূল্য  
 নাম মোর নহে তার তুল্য।  
 তাই তো নিজেরে বলি, ধিক্,  
 তোমারই হিসাব-জ্ঞান ঠিক।  
 বস্তু-অবস্তুর সেন্স্  
 খাঁটি তব, তার ডিফারেন্স্  
 পষ্ট তোমার কাছে খুবই—  
 তাই, হে লজঞ্জুস-লুভি,  
 মতলব করি মনে মনে,  
 খাতা থাক্ টেবিলের কোণে।  
 বনমালী কো-অপেতে গেলে  
 টফি-চকোলেট যদি মেলে  
 কোনোমতে তবে অন্তত  
 মান রবে আজকের মতো।  
 ছ বছর পরে নিয়ো খাতা,  
 পোকায় না কাটে যদি পাতা। 
  
====== 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url